ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: ডাকওয়ার্থ লুইস মেথড কী এবং কীভাবে কাজ করে?

Share The News and also now People

এবারের বিশ্বকাপে বৃষ্টির জন্য চারটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে, যা বিশ্বকাপের মত আসরে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচের তালিকার হিসেবে সবচেয়ে বেশি।

ক্রিকেট খেলাটির সবচেয়ে বড় বাধা হলো আবহাওয়া, মূলত বৃষ্টি।

এই বৃষ্টির বাধাকে অতিক্রম করে দুই দলের মধ্যে বিজয়ী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নানা ধরণের উপায় অবলম্বন করা হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে।

বৃষ্টির কারণে পুরো ম্যাচ না হলে রান রেটের গড় অথবা সবেচেয়ে বেশি রান কোন ওভার থেকে এলো এমন হিসেব করে একসময় নির্ধারণ করা হতো ম্যাচের বিজয়ী।

কিন্তু ঐ হিসাবের কিছু ত্রুটি ছিল, যার ফলে কোনো না কোনো দল অন্যায্য সুবিধা পেতো।

যেমন, রান রেটের ক্ষেত্রে উইকেট বিবেচনা করা হতো না, তাই শুধু দ্রুততম সময়ে বেশি রান তুলে ফেললেই জিতে যেত কোনো দল।

আর সবচেয়ে বেশি রান যেসব ওভারে এসেছে এই প্রক্রিয়াতেও একই সমস্যা; দ্বিতীয় অর্ধে ব্যাট করা দল কত উইকেট হারিয়েছে সেটা হিসেবে আসতো না।

এরপর এই সমস্যা সমাধানে দুই অঙ্কবিদের নতুন এক সমীকরণের সাহায্য নেয়া হয়।

ঐ দুইজনের নাম ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ ও টনি লুইস।কীভাবে এলো এই ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথড?
১৯৯২ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান কোন ওভার থেকে আসছে, এই প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ১৩ বলে ২২ রান, ঠিক তখনই বৃষ্টি নামে।

বৃষ্টি থামার পর তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১ বলে ২১ রান।

২ ওভার কমিয়ে রান কমানো হয় মাত্র একটি।

ক্রিকেট, বৃষ্টি, ডাকওয়ার্থ-লুইস

ডাকওয়ার্থের বইয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি রেডিওতে শুনছিলাম, ধারাভাষ্যকার বলছেন, নিশ্চয়ই কেউ আরো ভালো আরো কার্যকর কোনো আইডিয়া নিয়ে আসবেন, আমি তখন গাণিতিক সমস্যাটা অনুধাবন করি।”

এই একই ম্যাচে যদি ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথড প্রয়োগ করা হতো তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন হতো টাই করার জন্য চার এবং জয়ের জন্য পাঁচ রান।

ডার্কওয়ার্থ-লুইস মেথড প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৯৭ সালের পহেলা জানুয়ারি, জিম্বাবুয়ে ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের একটি ম্যাচে, যেই ম্যাচে ৭ রানে জয় পায় জিম্বাবুয়ে।

১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ডার্কওয়ার্থ-লুইস বা ডি/এল মেথড গ্রহন করে নেয় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে রান গণনা করে জয়ী দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে ফলাফল পাওয়ার জন্য তিনটি বিষয় বিবেচ্য

১. মোট রান

২. মোট ওভার কত বাকি

৩. হাতে কত উইকেট আছে।

ক্রিকেট, বৃষ্টি, ডাকওয়ার্থ-লুইস

যদি প্রথমে ব্যাট করা দল একটা স্কোর দাঁড় করায় এবং এরপর বৃষ্টি চলে আসে।

সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় দলকে কী করতে হবে? ঠিক কত রান করতে হবে সেটাই প্রশ্ন।

এই ‘কত রান’ হলো ‘পার’ স্কোর।

অর্থাৎ দ্বিতীয় দলের পার স্কোর= প্রথম দলের স্কোর গুণ (দ্বিতীয় দলের কী আছে / প্রথম দলের কী আছে)

এই ‘কী আছে’ হলো, উইকেট ও ওভার।

যদি দুই ইনিংসের আগেই বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ছোট হয়ে আসে, তাহলে ডি/এল মেথড প্রয়োগ হবে না কারণ দুই দলই জানে তাদের কী দরকার, কত উইকেট আছে ও কত ওভার আছে।

প্রথম দলের ব্যাটিং শেষ হবার পরেই শুধুমাত্র দ্বিতীয় দলের লক্ষ্য ঠিক করা হয়।

যদি প্রথম দলের ব্যাটিংয়ের মাঝপথে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয় সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় দলের জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্য সাধারণত বেড়ে যায়।

কারণ দ্বিতীয় দলের কাছে উইকেট ও ওভার স্বভাবতই বেশি বাকি থাকে।

যুক্তি হচ্ছে, যদি ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করার আগে প্রথম দল ভাবে যে আমাদের ৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে, সেক্ষেত্রে তার নিশ্চিতভাবেই প্রথম ২০ ওভার রক্ষণশীল ভঙ্গিতে ব্যাট করবে।

এরপর যদি হঠাৎ বৃষ্টি নামে সেক্ষেত্রে সেই একই টোটাল যদি দ্বিতীয় ভাগে ব্যাট করা দলকে তাড়া করতে হয় সেটা অন্যায্য হবে, কারণ প্রথম দল যদি জানতো তাদের ২০ ওভার ব্যাট করতে হবে তাহলে তাদের ব্যাটিংয়ের ধরণ আলাদা হতো।

আর সেক্ষেত্রেই তাদের বাকি ৩০ ওভারের জন্য কত উইকেট বাকি ছিল এটা হিসেবে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »